ad720-90

রূপকথার ড্রাগন এখন আকাশে!


 

সকাল পৌনে ছয়টা। কুয়াশার পাতলা চাদর সরিয়ে সবে জেগে উঠছে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহর। রিভার ক্লাইডের তীর ধরে ওভো হাইড্রোর পাশ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন এসটিভি রেডিওর উপস্থাপক ইউয়েন ক্যামেরন। হঠাৎ আকাশে তাকাতেই যে দৃশ্য তাঁর চোখে পড়ল, তা তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

 

‎চোখ কচলিয়ে আবারও আকাশের দিকে তাকালেন ক্যামেরন। তাঁর চোখের ভুল নয়, সত্যি সত্যিই নদীর ওপর আকাশে শান্ত ভঙ্গিতে ভেসে বেড়াচ্ছে সুবিশাল এক ড্রাগন।

 

‎কল্পকাহিনির ডানাওয়ালা এই দৈত্য কি তবে বাস্তব দুনিয়ায় নেমে এল? ক্যামেরন আর দেরি না করে পকেট থেকে ফোন বের করে সে দৃশ্য ভিডিও করা শুরু করেন।

 

‎পরে সেই ভিডিও ক্যামেরন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। মুহূর্তেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়, নেট দুনিয়ায় শুরু হয় তুমুল হইচই।

 

‎স্কটল্যান্ডের আকাশে কি তবে সত্যি দেখা মিলল রূপকথার ড্রাগনের? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা রকম তত্ত্ব আসা শুরু হলো, কেউ কেউ কৌতুক করতেও ছাড়লেন না।অবশ্য কয়েক দিনের মধ্যে সব জল্পনা–কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বের হয়ে আসে আসল রহস্য। ড্রাগনটি কোনো পৌরাণিক প্রাণী নয়, বরং বিজ্ঞানের এক অনবদ্য বিস্ময়।

 

‎এটি এইচবিওর বিখ্যাত থ্রিলার সিরিজ ‘হাউস অব দ্য ড্রাগন’-এর জনপ্রিয় ড্রাগন ‘সাইর‍্যাক্স’-এর একটি মডেল, যেটি নিখুঁতভাবে রিমোট–নিয়ন্ত্রিত। ১৩ কেজি ওজনের এই ড্রাগন তৈরি করেছে জার্মানির বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারস্টেজ’। কার্বন ফাইবার, ফোম এবং পায়ে লুকানো ক্ষুদ্র ইঞ্জিনের সাহায্যে এটি তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাতাসে ভেসে থাকতে কোনো বেগ পেতে না হয়।

 

‎ড্রাগনটির চালক ডেনিস গুটোওস্কি বেশ গর্বের সঙ্গেই বলেন, ‘২৩টি সচল যন্ত্রাংশের মেলবন্ধনে আমরা এই সুন্দর ড্রাগন বানিয়েছি। এর রাডার, প্রোপেলার, লেজ এমনকি ডানাগুলোও নড়াচড়া করে। সাধারণ একটি আরসি প্লেন ওড়ানোর চেয়ে ড্রাগন ওড়ানো সম্পূর্ণ আলাদা ও রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা।’

 

‎এর আগে লন্ডনের আকাশ কাঁপিয়ে প্রচার চালিয়েছিল এই যান্ত্রিক ‘সাইর‍্যাক্স’। কয়েক মাসের টানা গবেষণা ও সূক্ষ্ম কারিগরি দক্ষতার পর তৈরি করা এই কৃত্রিম ড্রাগন যে ভোরবেলায় স্কটল্যান্ডবাসীকে একটা বড়সড় বিস্ময় উপহার দিয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:১৫:৩৮ ●
৮৬ বার পঠিত





সর্বপ্রথম প্রকাশিত

Sharing is caring!

Comments

So empty here ... leave a comment!

Leave a Reply

Sidebar